
ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ব্যবসায়ীদের একাধিক গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) মধ্যরাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশের কাশিম বাজার এলাকায় স্থানীয় তিন ব্যবসায়ীর গুদামঘরে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন—ছমের আলী, রবিউল ইসলাম ও সোনাউল্ল্যা মিয়া। ঘটনার সময় তারা পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৩০ কেজির বস্তাসহ বিভিন্ন বস্তায় বিপুল পরিমাণ চাল অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক পরিমাণ নিরূপণ সম্ভব না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বস্তায় অন্তত ২০ মেট্রিক টন চাল সেখানে রাখা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চাল সরকারিভাবে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচির অংশ। কিন্তু তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল সরাসরি পাইকারদের কাছে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরে তা গুদামে মজুদ করা হয়। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। তিনি দাবি করেন, তার ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত সব ভিজিএফ চাল নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত চালের উৎস সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উদ্ধার করা চাল সরকারি মজুদের অংশ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ চাল অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্ধারকৃত চাল আপাতত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :