নিউজ ডেস্ক অনলাইন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
বুধবার বিকেল ৩টায় ধরলা পার্কে, ধরলা ব্রিজের পূর্ব পাশে এ আয়োজন শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি, লাঠিখেলা, হাড়িভাঙা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠাসহ নানা ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এসব খেলায় অংশ নিয়ে প্রতিযোগীরা যেমন আনন্দ উপভোগ করেন, তেমনি দর্শকরাও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উপভোগ করেন প্রতিটি আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, মহিলা দল কুড়িগ্রামের সেক্রেটারি মিলি কায়কোবাদ, শিবিরের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর বজলুর রশিদ এবং ছাত্রদল সভাপতি আমিমুল ইহসান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন, মুখপাত্র মিম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রিতু ও আরমান হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এ আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা খেলাগুলোর পুনর্জাগরণ এবং তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন, “সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতিতে ‘বৈশাখ ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের আয়োজনকে আরও অর্থবহ করেছে।” তিনি আরও বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করে এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

