হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে জুলাইয়ের শহীদদের ব্যানার উধাও, অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক | Hamar Kurigram

কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের উন্নয়নকাজ চলাকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুড়িগ্রাম জেলার সকল শহীদদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন।

সোমবার (৩১ আগষ্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে লোকমান হোসেন লিমন অভিযোগ করেন, জুলাই মাসে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের সহযোগিতায় এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রামের সৌজন্যে জুলাই স্তম্ভসহ কুড়িগ্রামের কয়েকটি স্থানে জেলার শহীদদের ছবি সংবলিত ব্যানার স্থাপন করা হয়েছিল।

তাঁর অভিযোগ, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের কাজের সময় ঠিকাদারের লোকজন রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন ব্যানার খুলে সরিয়ে রাখলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্থাপন করা শহীদদের ছবি সংবলিত ব্যানারটি আর পাওয়া যায়নি। ব্যানারটি সরানোর বিষয়ে সংগঠনের কাউকে কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লোকমান হোসেন লিমন বলেন, ব্যানারটি কোনো সাধারণ প্রচারণামূলক ব্যানার ছিল না। এতে কুড়িগ্রাম জেলার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ছবি ছিল। কাজের প্রয়োজনে ব্যানারটি সরানোর প্রয়োজন হলে সংগঠনকে জানানো হলেই তারা নিজেরাই সেটি খুলে নিরাপদে সংরক্ষণ কিংবা অন্যত্র স্থাপন করতেন।

ঘটনাটিকে নিছক একটি ব্যানার হারানোর ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর ভাষায়, “সেখানে ছিল আমাদের জেলার সকল শহীদের মুখ, ছিল জুলাইয়ের স্মৃতি।”

ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জুলাইয়ের স্মৃতির ওপর এত ক্ষোভ কেন?”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লোকমান হোসেন লিমন বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঠিকাদারের কোনো ‘ফ্যাসিবাদী’ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, তাঁর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি রক্ষা এবং ব্যানারটি কীভাবে উধাও হলো, তা তদন্তের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লোকমান হোসেন লিমন তাঁর পোস্টের শেষাংশে বলেন, “শহীদদের মুখ মুছে ফেলা যাবে না। জুলাই মুছে ফেলা যাবে না। জুলাই বেঁচে থাকবে—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।”

Exit mobile version