Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু ঘিরে পরিবারের ক্ষোভ

ফজলুল করীম ফরাজী ।। বিশেষ প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের খামার রসুলপুর গ্রামে ৮ বছর বয়সী হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু মোরশেদ আলীর মৃত্যু ঘিরে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ও আর্থিক সংকটের কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবারটি। এ ঘটনায় ঘোগাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মমিনুল ইসলাম মামুন ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর শিশুটির মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

পরিবারের দাবি, খামার রসুলপুর গ্রামের দিনমজুর মঞ্জু আলম দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী, বাবা-মা ও অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার ৮ বছর বয়সী ছেলে মোরশেদ আলী মাত্র সাত মাস বয়স থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

মঞ্জু আলমের পরিবারের অভিযোগ, রসুলপুর মৌজার এসএ-১২৩৬ খতিয়ানের ৯৩২৯ দাগসহ কয়েকটি দাগে মোট ৩ একর ৪১ শতাংশ জমির মধ্যে ৪৭ শতাংশ জমি তার বাবা আফছার আলী ও ফুফুদের মালিকানাধীন ছিল। ওই জমি মমিনুল ইসলাম মামুন ও তার স্বজনরা জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে জমিটি উদ্ধারের জন্য তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলাও করা হয়। তবে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত তারা কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি বলে অভিযোগ মঞ্জু আলমের।

মঞ্জু আলমের বাবা আফছার আলী বলেন, “আমাদের টাকা নেই, কোনো সাক্ষীও নেই। আমাদের সাক্ষী একমাত্র আল্লাহ।”

এলাকায় কথা বলে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধটি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিরোধ মীমাংসার জন্য মঞ্জু আলমের পরিবারকে কিছু অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে মমিনুল ইসলাম সরাসরি জড়িত নন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি।

অন্যদিকে মমিনুল ইসলাম মামুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছি। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমার ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।”

সন্তান হারানো বাবা মঞ্জু আলম বলেন, “আমার ছেলের চিকিৎসা আমি করতে পারিনি। ৮ বছর ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত আমার সন্তান ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে। আমি মমিনুল গংয়ের বিচার চাই।”

পরিবারের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, শিশুটির চিকিৎসা এবং তার মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক।

স্থানীয়দেরও দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Exit mobile version