কুড়িগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ১০:১৪ অপরাহ্ন /
কুড়িগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

২০০৯ সালের ২১ মে মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন আসামি।

আহসান হাবীব নীলু ।। কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে এক কিশোরী ধর্ষণ মামলার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দিয়েছে আদালত ।

কুড়িগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রিপতি কুমার বিশ্বাস সোমবার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।

দণ্ডিত আসামি মো. তোফাজ্জল হোসেন কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার যমুনা ঝেল্লারাম গ্রামের মো. সাহাবুদ্দিনের ছেলে।

সাজার পাশাপাশি বিচারক তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অনাদায়ে আসামিকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, তোফাজ্জল হোসেন বিভিন্ন সময় একই গ্রামের মেয়েটির বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২০০৯ সালের ২১ মে মেয়েটির বাবা অন্যের বাড়িতে দিনমজুর কাজ করতে যান। ওইদিন সকালে তার মা তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান।

এ সময় বাড়িতে একা পেয়ে তোফাজ্জল মেয়েটির মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেন। পাশাপাশি বিষয়টি গোপন রাখলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে প্রলোভন দেখান।

ঘটনার পর আসামি কয়েকদিন ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। এক পর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে ওই কিাশোরী তোফাজ্জলকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে যেতে বললে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ১৭ অক্টোবর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বাড়িতে অনুষ্ঠিত সালিশে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং তিন দিনের মধ্যে মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিয়ে না করায় মেয়েটি উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান সরকার বলেন, এ রায় ঘোষণার সময় বাদী ও ভিক্টিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।