Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে আন্দোলন, ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন

নিউজ ডেস্ক

কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহির মনোনয়নপত্র বাতিলকে কেন্দ্র করে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সেখানে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ ও ‘হিন্দু কর্মকর্তার প্রতি হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সরেজমিনে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি (রোববার) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ কোনো ধরনের নথিপত্র পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই না করেই ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রার্থীপক্ষের উপস্থাপিত কাগজপত্র ও আইনগত ব্যাখ্যা শোনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে ব্যারিস্টার সালেহির কর্মী-সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর কিংবা কারো প্রতি শারীরিক বা মৌখিক হুমকির ঘটনা ঘটেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শান্তভাবে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিবাদকারীরা স্থান ত্যাগ করেন।

তবে পরে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ (India Today)–এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ‘হিন্দু কর্মকর্তাকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে এ প্রতিবেদন সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রশাসনিক ও আইনগত বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রতিবেদন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যারিস্টার সালেহির সমর্থক খাজা মইনুদ্দিন বলেন,
“আমরা জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগত ও গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখানে কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন বা ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রশ্নই ওঠে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ শুধু গণমাধ্যমের নৈতিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকিও বাড়ায়।

ভারতীয় পত্রিকার নিউজ লিংক

https://www.facebook.com/share/p/1AQhDVVbu1

Exit mobile version