হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রুহুল কবির রিজভীই কি হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব?

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই দলটির সাংগঠনিক নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার শূন্য পদে কুড়িগ্রামের সন্তান ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

দলীয় সূত্র বলছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রথম ধাপে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা এবং পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে।

রিজভীর সম্ভাব্য দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, দপ্তর পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে বিএনপির দীর্ঘ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরায় রিজভী দলটির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তার সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করেন দলের অনেক নেতা।

 

রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাব্য মহাসচিব হওয়ার আলোচনা তার জন্মভূমি কুড়িগ্রামেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে জেলার এই নেতার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের সন্তান রিজভী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য দাবিদারদের মধ্যে এগিয়ে রেখেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে।

রিজভী নিজেও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ২০-২১ আগস্টের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে এবং দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নেই বলেও জানান তিনি।

 

বিএনপির ইতিহাসে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের পরবর্তী সময়ে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার নজির রয়েছে। ২০১১ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন।

দলীয় সূত্রের দাবি, একই ধরনের প্রক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রিজভীকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য নতুন দায়িত্ব এবং তার স্থলে কুড়িগ্রামের রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাব্য উত্থান—দুই বিষয় মিলিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা এখন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

Exit mobile version