Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে জলবায়ু ধর্মঘট পালিত

মোঃ ফজলুল করিম ফরাজি

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারের দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী এক জলবায়ু ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

শুক্রবার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত ‘প্রথম আলো চরে’ এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

৩৫০ ডট বাংলাদেশ ও সিরা’র সহযোগিতায়, ইয়ুথ ফর এনডিসি অংশীদারিত্বে এবং জাস্টিস ফর চর অ্যান্ড লোকাল রিসার্চের নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক চরবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ জলবায়ু কর্মীরা অংশ নেন।

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা চরের তীরে দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও স্লোগানের মাধ্যমে জলবায়ু সুবিচার ও টেকসই উন্নয়নের দাবি জানান।

অংশগ্রহণকারী শাহিন ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে। প্রতি বছর বন্যা, নদীভাঙন ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাচ্ছে।

বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও বাসযোগ্য পৃথিবীর দাবি জানান এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

জাস্টিস ফর চর অ্যান্ড লোকাল রিসার্চের সহসমন্বয়ক জিনিয়া জিম বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লার অতিরিক্ত ব্যবহার বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে, যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। তাই ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ফাইন্যান্স জরুরি।

ইয়ুথ ফর এনডিসির এক্সটারনাল কমিউনিকেশন ম্যানেজার ফাহিমা নূর জেরিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলে আয়োজিত এই ধর্মঘটে স্কুল শিক্ষার্থী থেকে প্রবীণ সবাই অংশ নিয়ে জলবায়ু ন্যায়ের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ তুলেছেন।

বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা এখন সময়ের দাবি।

ধর্মঘটে উঠে আসে—চরাঞ্চলের মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত না করলে টেকসই জলবায়ু সমাধান সম্ভব নয়।

Exit mobile version