কাঠমিস্ত্রির কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন রবিউল


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ১০:০৪ অপরাহ্ন /
কাঠমিস্ত্রির কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন রবিউল

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল ।। হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর কাপনার রবিউল এখন জেলার গর্ব। কাঠমিস্ত্রির সন্তান ও নিজে মাঝে মধ্যে বাবা সঙ্গে কাজে যেতেন তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এইচএসসি ২০২৫ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ অর্জন করেছে সে।

রবিউলের বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি, মা গৃহিণী। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রবিউল সবার ছোট। চরাঞ্চলের অবহেলিত এলাকায় বিদ্যালয় না থাকায় একসময় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

বাবার সঙ্গে মাঠের কাজ থেকে শুরু করে পেশাদার কাজ ও করত সে। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ কখনোই নিভে যায়নি তার মনে।একদিন প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষক মো. আ. কাদের তার প্রতিভা ও আগ্রহ দেখে তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। এরপর থেকেই রবিউলের জীবনে বদলে যায় দৃশ্যপট। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠে সে।

২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় রবিউল। এ সাফল্য তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এরপর সে ‘প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি’ পায়, যা তার শিক্ষাজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।শিক্ষাবৃত্তির সহায়তায় সে ভিতরবন্দ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয় এবং ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে আবারও জিপিএ–৫ অর্জন করে সে।

ফল জানার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় রবিউল। ভবিষ্যতে রবিউল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখছে। রবিউলের এই অর্জনে গর্বিত তার পরিবার, শিক্ষক ও চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা।