ডেস্ক নিউজ
কমিটি অনুমোদনের জন্য সদস্যদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া এবং বিভিন্ন বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন সাংবাদিক মোঃ মাইদুল ইসলাম। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যথাযথ আলোচনা না করার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়ে মাইদুল ইসলাম বলেন, কিছু নীতিগত ও আদর্শিক কারণে তিনি সংগঠন থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন।
তিনি জানান, সংগঠনের কমিটি অনুমোদনের জন্য সদস্যদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি এতে সম্মতি দেননি। তবে রংপুরের সম্মেলনে যাওয়া-আসা ও খাবারের জন্য ৭০০ টাকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত ছিলেন এবং অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়েও কথা হয়েছিল।
মাইদুলের অভিযোগ, পরবর্তীতে সংগঠনের একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হলেও কবে, কখন এবং কীভাবে আয়োজন করা হবে—তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলোচনা করা হয়নি। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানতে পারেন, বিভিন্ন বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নিজস্ব সদস্য ও সরকারি তহবিল থাকায় সেখান থেকে অর্থ নিয়ে অনুষ্ঠানটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যেত বলে মনে করেন তিনি। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়া তার ব্যক্তিগত আদর্শের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক ফরিদ খানের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর ধরে তার পরিচয় রয়েছে জানিয়ে মাইদুল বলেন, ফরিদ খান সংগঠনের জন্য প্রচুর শ্রম দিচ্ছেন এবং সবসময় সততার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে অর্থ নেওয়াও তিনি পছন্দ করেন না বলে মাইদুল উল্লেখ করেন।
নিজের সাংবাদিকতা পেশার বিষয়ে মাইদুল বলেন, সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার পর কোনো সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কোনো অর্থ নেননি। নিজের কম্পিউটারের দোকান চালিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সংবাদ করার জন্যও তাকে কেউ টাকা দেয়নি। তবে তার বা সহকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে অনেকে টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে রংপুরে আদালতে আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন এবং সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে কাজ শিখছেন মাইদুল ইসলাম। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কারও আইনি পরামর্শের প্রয়োজন হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, নিজে না পারলে সিনিয়র আইনজীবীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সহযোগিতা করবেন। কুড়িগ্রামেও তার পরিচিত অনেক আইনজীবী রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সিনিয়র সাংবাদিক ও সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে জানান মাইদুল।
তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় আজ থেকে সংগঠনের ভালো বা মন্দ কোনো ফলাফলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। ভবিষ্যতে সংগঠনের নামে কোনো অভিযোগ হলে তার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন না। সংগঠনের কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা থাকবে না।
এছাড়া সংগঠনের কোনো প্রচারণা, পোস্টার বা ব্যানারে তার নাম ও ছবি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
তবে সংগঠনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে মাইদুল বলেন, তারা তার নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু বা ভাই-বোনের মতো। পদ থেকে অব্যাহতি নিলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে।






