নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সময় না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম। একই সঙ্গে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) এরশাদুল হকের দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে রবিউল ইসলামের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে পিএস এরশাদুল হক দাবি করেছেন, অনুষ্ঠান শেষে এমপির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দেওয়া বক্তব্যে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমার এখনো বৈষম্য দূর করতে পারিনি। মনে হয় আর হবেও না।’
রবিউল ইসলাম জানান, ওই দিন নাগেশ্বরীতে A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মো. আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন জানতে পেরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সেখানে যান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এমপির সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কথা বলা।
রবিউল ইসলামের ভাষ্য, এমপির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁর পিএস এরশাদুল হক তাঁকে জানান, এভাবে দেখা করা যাবে না এবং এমপি অন্য একটি মিটিংয়ে আছেন। তবে রবিউল ইসলামের দাবি, ওই সময় এমপি নাগেশ্বরী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও জানান, এমপির সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। অনুষ্ঠান শেষে এমপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁকে সময় না দিয়ে সেখানে উপস্থিত নাগেশ্বরী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। পরে এমপি ব্যস্ততার কথা বলে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম।
ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রবিউল ইসলাম বলেন, একজন সংসদ সদস্য যদি জনগণের সেবক হিসেবে জনগণকে সময় দিতে না পারেন, তাহলে বৈষম্য দূর হলো কীভাবে? একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, এমপির পিএস কেন তাঁকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং এর পেছনে কারণই বা কী।
রবিউল ইসলাম আরও প্রশ্ন করেন, জনগণকে এমপির কাছ থেকে দূরে রাখার জন্যই কি এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে, নাকি সাধারণ জনগণের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জবাবও দাবি করেন তিনি।
রবিউল ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে এমপির পিএস এরশাদুল হক বলেন, রবিউল ইসলাম আগেই এমপির সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, সকালে নাগেশ্বরী উপজেলা হলরুমে A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
এরশাদুল হকের দাবি, অনুষ্ঠান শেষে রবিউল ইসলামের সঙ্গে এমপি আনোয়ারুল ইসলামের সাক্ষাৎ হয়। এ সময় রবিউল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের না ডাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। জবাবে এমপি বিষয়টি নিয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
পিএস আরও জানান, এরপর ভুরুঙ্গামারীতে A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য এমপিকে দ্রুত চলে যেতে হয়।
এরশাদুল হক বলেন, “এমপি স্যার অনেক ভালো মানুষ। কেউ দেখা করতে চাইলে তিনি না বলেন না, দেখা করেন। তবে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচি ও ব্যস্ততা থাকায় সব সময় সবার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয় না।”
রবিউল ইসলামের অভিযোগ এবং এমপির পিএসের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রবিউল ইসলাম তাঁর বক্তব্যের শেষদিকে বলেন, ‘সময় এক থাকে না, সময় পরিবর্তনশীল।’
