উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙনে আতঙ্ক: স্কুল বাঁচাতে শিশুদের কান্না, মানববন্ধনে জনস্রোত


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ন /
উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙনে আতঙ্ক: স্কুল বাঁচাতে শিশুদের কান্না, মানববন্ধনে জনস্রোত

শাহজাহান খন্দকার, উলিপুর

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা-এর হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের সংযোগস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর তীব্র ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় মানুষ। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীও। তাদের চোখে-মুখে ভয়, অনিশ্চয়তা আর প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারানোর আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায় কণ্ঠে বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন,
“এই ভিটাটুকুই আমাদের সব। নদী যদি নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?”

স্থানীয় বাসিন্দা নওশের আলী জানান,
“প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাবে।”

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল শিশুদের আকুতি। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলে,
“আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব?”
তার সহপাঠী রাব্বি যোগ করে,
“আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন,
“নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বারবার গৃহহীন হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা নদ, ধরলা নদ ও দুধকুমার নদ-এ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন,
“দ্রুত এক লাখ জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে।”

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে? কারণ প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে বসতভিটার দিকে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতভিটা নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো জনপদই বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীগর্ভে।