উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ শিকারের মহোৎসব, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৫, ৮:৪৮ অপরাহ্ন /
উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ শিকারের মহোৎসব, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা

জাহিদ হাসান || হামার কুড়িগ্রাম


‎কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্রহ্মপুত্র নদে চলছে ইলিশ শিকারের মহোৎসব। অজ্ঞাত কারণে মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের নীরবতা এবং নজরদারির অভাবে জেলেদের জালে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ, যা বিভিন্ন ঘাটে ও বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।



‎সরেজমিনে উপজেলার হাতিয়া ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকা ও ব্রহ্মপুত্র নদে জেলেদের নৌকা নিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রশাসন কিংবা মৎস্য বিভাগের কোন অভিযান দেখা যায়নি। সেখানে নির্বিচারে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। গত ৪ অক্টোবর থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শুধুমাত্র দুই/তিনদিন উপজেলা প্রশাসন দায়সারাভাবে অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদাসীনতায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবাধে মা ইলিশ নিধন চলছে। এতে ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎তবে জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি যে সহায়তা দেয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে মাছ শিকারে নেমেছেন তারা।

‎উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, জেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল ২১ অক্টোবর সাহেবের আলগা এলাকায় ৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৪ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে জেলা মৎস্য বিভাগ। এর আগে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

‎উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে প্রজনন করতে পারে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পুলিশ তৎপর রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সাথে কথা বলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

‎এ বিষয়ে বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ শিকার রোধে দুই/তিনদিন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।