
উপজেলা প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
২৭ কুড়িগ্রাম–০৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহীকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় ও একান্ত যোগাযোগের গুঞ্জন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দূর্গাপুর, বাংলাদেশ কৃষকলীগ উলিপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম সাঈদ এবং বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুর নবী সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহীর যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের কথা আলোচনায় এসেছে। এসব গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা ও সচেতন রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসছে—দিনের ভোট রাতে হওয়া, গুম-খুন ও দমন-পীড়নের অভিযোগে দীর্ঘদিন যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, সেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বোঝাপড়ার ইঙ্গিত থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি রাখে। অনেকের মতে, এই গুঞ্জন শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রশ্ন নয়; বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও যাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন হয়েছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে নীরবতা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সচেতন নাগরিক মনির হোসেন বলেন, “উলিপুরের মানুষ এখন পরিষ্কার ও সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান দেখতে চায়। বিভ্রান্তিকর বার্তা সাধারণ মানুষের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির কথা বলা হলেও যদি পর্দার আড়ালে ভিন্ন বার্তা যায়, তাহলে জনগণ সেই রাজনীতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উলিপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ভেতরেই মতবিভেদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ইতিবাচক নয়। অনেকের অভিমত—স্বচ্ছতা ও নৈতিক দৃঢ়তাই হতে পারে জনগণের রাজনীতির প্রধান ভিত্তি।
আপনার মতামত লিখুন :