উলিপুর প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দায়সারা ভাবে পালনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে র্যালির নামে ফটোসেশন, পরিত্যক্ত পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত এবং প্রকৃত মৎস্যচাষীদের অনেককে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মৎস্যচাষীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট তিন দিনব্যাপী ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে র্যালি, আলোচনা সভা, মৎস্যচাষীদের পুরস্কার প্রদান ও মাছের পোনা অবমুক্ত করার কথা ছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, র্যালির পরিবর্তে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার নিয়ে ছবি তোলার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। উপজেলার চারজন মৎস্যচাষীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. আরিফ।
স্থানীয় মৎস্যচাষীদের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত হলেও মাঠপর্যায়ের মৎস্যজীবী ও চাষীদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত। আধুনিক মাছ চাষ, রোগবালাই প্রতিরোধ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যচাষ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি চাষীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও অনেকেই কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেননি।
পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গো-হাটির প্রায় তিন একর আয়তনের পুকুরটি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে মৎস্যচাষ করছে ব্যাপ্তি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। সমিতির প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন বলেন, “মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আমরা কোনো তথ্য বা আমন্ত্রণ পাইনি। আমাদের মতো অনেক সংগঠন ও সফল মৎস্যচাষীকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।”
এদিকে মৎস্য বিভাগের নিয়মিত তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন মৎস্যচাষী। তাদের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ চায়না বা ডারকি জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারের মাছের দোকানে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মৎস্যচাষী বলেন, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। তাদের দাবি, মৎস্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও জোরদার করা হলে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে সকল মৎস্যচাষীকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তবে সবাইকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরিত্যক্ত পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ, র্যালির পরিবর্তে ফটোসেশন এবং অনুষ্ঠানের বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অফিসে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন। বাজারে পিরানহা মাছ বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি দেখব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. আরিফ বলেন, “মৎস্য বিভাগের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে গিয়ে উদ্বোধন করেছি। মৎস্য বিভাগ কাকে ডেকেছে বা কাকে ডাকেনি, তা জানি না। অন্যান্য বিষয়গুলো তারাই ভালো বলতে পারবে।”
স্থানীয় মৎস্যচাষীদের দাবি, জাতীয় মৎস্য পক্ষ যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ না থাকে। মাঠপর্যায়ের চাষী ও মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও তদারকির ব্যবস্থা করা হলে এ ধরনের কর্মসূচি আরও কার্যকর হবে।






