উলিপুর প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে সৈকত বাবু (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের থেতরাই বাজার এলাকায়।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, থেতরাই ইউনিয়নের দড়ি কিশোরপুর কানিপাড়া এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে শাহিন সালাউদ্দিন (৪৫)-এর সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল হামিদ মাস্টারের ছেলে ব্যবসায়ী সৈকত বাবুর পূর্বশত্রুতার জেরে বিরোধ চলে আসছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে থেতরাই বাজারে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সৈকত বাবুকে একা পেয়ে শাহিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়।
খবর পেয়ে সৈকত বাবুর বাবা আব্দুল হামিদ মাস্টার ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে হামলাকারীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা সার, কীটনাশক ও আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত সৈকত বাবুকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় সৈকত বাবুর চাচা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে শাহিন সালাউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহিন সালাউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তারা (সৈকত বাবু) নিজেরাই আমাদের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমিও তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি। বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করছে।”
উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, “সৈকত বাবুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






