হামার কুড়িগ্রাম

উলিপুরে নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা

উলিপুর

কুড়িগ্রামের উলিপুরে পূর্ববিরোধের জেরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোস্তম আলী, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল মতিনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভাঙচুর ও মালামাল লুটের কারণে মোট ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মো. মালেকুজ্জামান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ সরাইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে মালেকুজ্জামানের নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মালেকুজ্জামানের অভিযোগ, এ সময় ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে পাঁচটি নির্মাণাধীন পাকা কক্ষ, ছাদ ঢালাই করা দুটি কক্ষ এবং সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পাশের মাটিয়াল আল-মোজাদেদিয়া দ্বীনি দাখিল মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুরে বাধা দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবন থেকে টিন, কাঠ, সিমেন্ট, লোহার দরজা, শাটার, জানালা, রড ও ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

এ ঘটনায় রোস্তম আলী, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুল মতিনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মালেকুজ্জামান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রোস্তম আলী ও মোহাম্মদ আলী ভাঙচুরের কথা স্বীকার করে জানান, তাঁদের দাবি অনুযায়ী, নিজেদের জমিতে মালেকুজ্জামান ও ইস্রাফিলরা জোর করে দেয়াল নির্মাণ করছিলেন। এ কারণে তাঁরা ইটের দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Exit mobile version