হামার কুড়িগ্রাম

উলিপুরে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা, নিরাপত্তায় ৮০২ আনসার সদস্য

উলিপুর প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক উৎপল রায়ের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উলিপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পার্থ প্রতীম মজুমদার।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম. আরিফ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. মেহেদী হাসান, উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, সদস্যসচিব সোলায়মান সরকার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রমেশ শাহা ও এরশাদুল হাবীব নয়ন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা শুরা সদস্য আব্দুল জলিল, উলিপুর বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন চাঁদ, রথীন্দ্রনাথ প্রসাদ পান্ডে, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক চন্দন কুমার সরকার এবং উলিপুর মহিলা কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র প্রমুখ। সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পূজামণ্ডপগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

এ সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পূজামণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, এ বছর উলিপুর উপজেলায় ১২৭টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ মন্দিরগুলোতে আটজন করে পুরুষ ও মহিলা আনসার সদস্য এবং অন্যান্য মন্দিরে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে মোট ৮০২ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম থাকবে।

Exit mobile version