উলিপুর প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও জেলা বিএনপির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফরম বিক্রির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হায়দার আলী মিয়া দলীয় প্যাডে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফরম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা।
উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে মোট ৩৭ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেন। এ বাবদ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই ফরম বিক্রির প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জেলা বিএনপি।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফিজার রহমান ও সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ যৌথ স্বাক্ষরে উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তারিক আবু আলা চৌধুরী ও সদস্য সচিব হায়দার আলী মিয়াকে চিঠি দেন।
চিঠিতে কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির কাছে জমা দিতে বলা হয়।
এর জবাবে উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তারিক আবু আলা চৌধুরী ও সদস্য সচিব হায়দার আলী মিয়া যৌথভাবে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তাঁরা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার আলোকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।
জেলা ও উপজেলা বিএনপির চিঠি চালাচালির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য মো. ইদ্রিস আলী বলেন, জেলা বিএনপির সঙ্গে উপজেলা বিএনপির কার্যকর সমন্বয়ের অভাব থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দ্রুত কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া না হলে স্থানীয় পর্যায়ে দল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এর প্রভাব আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের কার্যক্রমেও পড়তে পারে।”
তবে ফরম বিক্রির বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো পৃথক সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

