
ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের জনতাহারহাট এলাকার বাসিন্দা মোছা. ছামছুন্নাহার বেগম তার ছেলে মো. শিপু মিয়ার ওপর হামলার বিচার চেয়ে উলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি মো. লায়ন মিয়া বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি এবং ২ নম্বর আসামি মো. রিফাত হোসেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগীও হামলায় অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়, জনতাহারহাট ফুটবল মাঠে খেলা দেখা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তদের সঙ্গে শিক্ষার্থী শিপু মিয়ার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মন্ডলেরহাট স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা শেষে মাঠে আসামাত্রই অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, লোহার রড ও সাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে।
এ সময় হামলাকারীরা শিক্ষার্থী ও তার মাকে অবরুদ্ধ করে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা শিপু মিয়াকে তার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত শিপু মিয়ার গলা চেপে ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হামলাকারীরা তাকে মারতে মারতে মন্ডলেরহাট বাজারের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অভিযুক্তরা পুনরায় ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত শিপু মিয়াকে উদ্ধার করে অটোরিকশাযোগে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৯৪৯০/১৬৭।
এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আহত সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল পরিবেশে এ ধরনের সহিংসতা গভীর উদ্বেগজনক এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা লায়ন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মারধরের ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন; বরং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
আপনার মতামত লিখুন :