মোঃ রফিকুল ইসলাম ।। কুড়িগ্রাম সদর
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কুমরপুর শিপেরতল এলাকায় সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা প্রভাবশালী কর্তৃক অবৈধ ভাবে দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। শিপেরতল এলাকাবাসী সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তাটি উদ্ধার করে জনস্বার্থে দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কুমরপুর শিপেরতল এলাকায় বরাদ্দকৃত রাস্তার খাস জমি ব্যবহার করে প্রভাবশালী কর্তৃক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তাটি উদ্ধারের জন্য উত্তর কুমরপুর এলাকার মৃত এলাহী শেখের পুত্র আজিজার রহমান সহকারি কমিশনার ভূমি বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরেজমিন তদন্ত করে সহকারী কমিশনার ভূমি কুড়িগ্রাম সদর বরাবর একটি তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৬ নভেম্বর’ ২০২৫ইং স্বাক্ষরিত স্মারক নং- ১১২ মূলে দাখিল করেন। রেকর্ডপত্র যাচাইকালে দেখা যায় অত্রাফিসাধীন উত্তর কুমরপুর মৌজাস্থ আর এস ০১ নং খতিয়ানভূক্ত আর এস ৬০৭ দাগে রাস্তা শ্রেনী ১.২৯০০ একর জমি যাহা বাংলাদেশ সরকার পক্ষে কালেক্টর, কুড়িগ্রাম নামে রেকর্ড প্রচারিত।
সরেজমিন তদন্তকালে নকশাদৃষ্টে দেখা যায়, আর এস ৬০৭ দাগের জমিতে দৃশ্যমান জনসাধারনের চলাচলের জন্য পাঁকা রাস্তা রয়েছে, যা জনসাধারন ব্যবহার করে আসছেন। নকশা যাচাইকালে/প্রাথমিক পরিমাপকালে দেখা যায় নকশা মোতাবেক তর্কিত আর এস ৬০৭ দাগের তর্কিত স্থানের প্রস্থ প্রায় ২৬ হতে ২৭ ফুট কিন্তু সরেজমিনে বর্তমানে প্রায় ১৫/১৬ ফুট রাস্তা রয়েছে। সরেজমিন তদন্তকালে দেখা যায় তর্কিত দাগের রাস্তার জমির কিছু অংশে মোঃ আক্কাছ আলী পিং মৃত গিয়াস উদ্দিন বাড়ীর ঘেরার জন্য টিনের বেড়া দিয়েছেন, মোঃ আজিজার রহমান, পিং মৃত এলাহী বকস কিছু অংশে কয়েকটি সুপারি গাছ লাগিয়েছেন, মোঃ দুলাল মিয়া, পিং মৃত আকবর আলী কিছু অংশে আধা পাকা টিন সেড দোকানঘর ও মোঃ খোকন মিয়া পিং আব্দুর রসিদ কিছু অংশে ভাটায় ব্যবহারের নিমিত্ত আধা পাকা ঘর হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট জানা যায়, খোকনের জায়গা ও স্থাপনা বর্তমানে দুলাল মিয়ার নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
সরেজমিন তদন্তকালে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জানান যে, সরকারি রাস্তাটি সরু বা সংকীর্ন হওয়ার কারনে দুর্ঘটনা ঘটে তাই রাস্তার জমি হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি প্রসস্থ করার দাবী জানান এবং একই সাথে সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা সরকারি রাস্তার জমির সীমানা নির্ধারণের দাবী জানান। সরেজমিন তদন্তকালে আবেদিত বিষয় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। যেহেতু সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ৬০৭ দাগের আংশিক জমিতে উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ স্থাপনা নির্মাণ করে যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে তাই উক্ত অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদনে মতামত দিয়েছেন ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
এব্যাপারে উত্তর কুমরপুর শিপেরতল এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ আজিজুর রহমান জানায়, অবৈধ ভাবে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তার জায়গা প্রভাবশালী কর্তৃক দখল হওয়ায় সরকারি রাস্তাটি সরু বা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই রাস্তার জমি হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি প্রস্থ করার দাবি জানাচ্ছি।
এব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম মিলন জানায়, সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা দখল করে কোন ধরণের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রকৃত পক্ষে বেআইনী। আমরা সকল ধরণের বেআইনী কার্যক্রমের বিরোধী এবং জনস্বার্থে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি প্রস্থ করা হোক।

