
আশির্বাদ রহমান ।। হামার কুড়িগ্রাম
আর মাত্র দুই দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। উৎসবকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম শহরে যাতে কোনো ধরনের যানজট সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে ট্রাফিক পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কুড়িগ্রাম জেলা সম্মিলিত শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব সাংবাদিক আমিনুর রহমান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এমন সমন্বিত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে করে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছে এবং শহরের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় থাকছে।

অন্যদিকে পথচারী লুজিনা বেগম বলেন, মার্কেট করার জন্য কেতার মোড় থেকে সুপার মার্কেটে যাচ্ছি। সেনাবাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ চেষ্টার কারণে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সহজে চলাচল করতে পারছি।
পথচারী সবুজ মিয়া জানান, শহরে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। তবে ট্রাফিক পুলিশ সবসময় চেষ্টা করে তা নিরসনের। এবার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি আরও ভালো হয়েছে। আমরা এখন অনেকটা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর ট্রাফিক ইনচার্জ মোঃ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো—যানজটমুক্ত ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, যাতে সবাই স্বস্তিতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

সার্বিকভাবে ঈদকে ঘিরে কুড়িগ্রাম শহরে শৃঙ্খলাপূর্ণ যান চলাচল নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের যৌথ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদযাত্রা হবে আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন—এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।
আপনার মতামত লিখুন :