ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আলিম পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।
অব্যাহতি পাওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের সচিব ও অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আলতাফ হোসাইন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার ও ট্যাগ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান।
জানা গেছে, বুধবার অনুষ্ঠিত আলিম বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন প্রথমপত্র পরীক্ষায় নাগেশ্বরী কামিল মাদরাসার এক অনিয়মিত পরীক্ষার্থী জাকিরুল ইসলামকে ভুলবশত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ইউএনও বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে পাশের উপজেলা থেকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে তার পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মাহবুবুল আলমকে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র তাদের কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়নি। কেন্দ্র পরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়নি বলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, “দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, কেন্দ্র বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় নাগেশ্বরী কামিল মাদরাসার পরীক্ষার্থীরা ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এবং ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদরাসার পরীক্ষার্থীরা নাগেশ্বরী কেন্দ্রে এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
