নিউজ ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অন্তত একশ’ মানুষের কাছ থেকে প্রায় আট কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। মাসে তিন লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে টাকা আদায়ের পর চক্রটির মূল হোতারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের জগজুল্লিপাড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছোট ছেলে জাহিদ হাসান এই প্রতারণার শিকারদের একজন। চার সন্তানের মধ্যে জাহিদ পড়াশোনা বেশি না জানলেও জীবিকার তাগিদে ট্রাক চালকের কাজ করতেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় কৃষি ভিসায় যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাসে তিন লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেয় প্রতারকচক্রটি। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবাদি জমি ও গরু বিক্রি করে দুই ধাপে প্রায় নয় লাখ টাকা দেন জাহিদের পরিবার। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভিসা বা বিদেশ যাত্রার কোনো অগ্রগতি হয়নি। উল্টো প্রতারকরা বিভিন্ন তারিখ দিয়ে টালবাহানা করে আসছে।
অপু
জাহিদের বাবা আব্দুল হামিদ বলেন, “আমরা সব শেষ করে ছেলের জন্য টাকা দিয়েছি। এখন কোনো খোঁজ নেই। শুধু তারিখের পর তারিখ দেয়।”
শুধু জাহিদই নন—একই এলাকার আকবর মাস্টারের ছেলে ফারুক, আমান আলীর ছেলে মোহাম্মদ শফি, ইমান আলীর ছেলে ফারুকসহ সন্তোষপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার অন্তত ৫০ জন মানুষ একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রত্যেকে আট থেকে দশ লাখ টাকা করে দিয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারকচক্রের প্রধান সন্তোষপুর ইউনিয়নের জয়নাল ডাক্তারের জামাতা, পাবনা জেলার বাসিন্দা মিজান মিয়া। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন স্ত্রী বিলকিস, বিলকিসের বড় ভাই আব্দুর রহিম এবং স্থানীয় অপু। ঘটনার পর থেকেই মিজান মিয়া ও তার স্ত্রী বিলকিস পলাতক রয়েছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় সহযোগী অপু বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। এ ছাড়া বিলকিস ও অপুর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বর্তমানে বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মিজানের শ্বশুর জয়নাল ডাক্তার বলেন, “মেয়েজামাই টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছে।”
অভিযুক্তের স্বজন ডাক্তার আব্দুর রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি নিজেও প্রতারিত হয়েছি। এসব অভিযোগ ঠিক নয়।”
এদিকে বিদেশগামীদের দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত এবং প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

