নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের বিতর্কিত এবং দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস ছালাম (সুজা)-কে আবারও দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ মে অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস ছালাম (সুজা) আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
তৎকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের প্রায় সব শীর্ষ রাজনৈতিক দল “পাতানো ডামি নির্বাচন” আখ্যা দিয়ে বর্জনের ঘোষণা দেয়। সে সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আব্দুস ছালাম (সুজা)-র বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলেও দলীয় সূত্রে জানা যায়।
তবে ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একই নেতাকে আবারও ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বর্জিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া একজন প্রার্থীকে পুনরায় মূল্যায়নের এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা, দ্য রেড জুলাইয়ের আহ্বায়ক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুড়িগ্রাম জেলার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এ সিদ্ধান্ত জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। তার ভাষ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম (সুজা) ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছিলেন এবং সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের নির্বাচনকে বৈধতা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। সে কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। এখন তাকে আবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশ নেওয়ায় আব্দুস ছালাম (সুজা)-কে তখন দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি দলীয় রোকন হিসেবে পুনর্বহাল হন এবং দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
