
নিউজ ডেস্ক
“আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। আমাকে এবার ঈদের চাল দেয় নাই। কেন দিলো না? আমরা কি চাল পাওয়ার যোগ্য না? আমরা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা কি ভোট দেই না?”—চোখে-মুখে হতাশা আর কণ্ঠে ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন পাঁচগাছী ইউনিয়ন-এর ধরলা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা নামদেল আলী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার মতো অনেক প্রকৃত দরিদ্র মানুষ এবার ভিজিএফের চাল পাননি। বরং যাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো, তাদের অনেকেই এই সহায়তা পেয়েছেন এবং কেউ কেউ সেই চাল বাইরে বিক্রি করছেন। “এই চাল কি গরিবদের জন্য না?”—প্রশ্ন তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই অনুযায়ী গত মঙ্গলবার পাঁচগাছী ইউনিয়নে মোট ৭ হাজার ২০০ পরিবার এ সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক দরিদ্র পরিবার বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ সদি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ চলছে, কিন্তু যারা পাচ্ছে তারা বেশিরভাগই স্বচ্ছল পরিবারের। অনেকেই সেই চাল বাইরে এনে বিক্রি করছে। অথচ প্রকৃত দরিদ্রদের অনেকেই কিছুই পায়নি। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের ঘনিষ্ঠ লোকজনই বেশি সুবিধা পেয়েছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, অনেক হতদরিদ্র মানুষ চাল পায়নি—এ তথ্য তিনি অভিযোগের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, বঞ্চিতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :