রাজারহাট প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এমনকি স্ত্রীর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও স্বামীকে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল ও মাহমুদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাবার প্রায় ১৪ একর জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এদিকে অসুস্থ মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন মেয়েরা। গত ৩ জুন রাতে মেয়ের বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরদিন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে বৃদ্ধ স্বামী আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখায় তিনি স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারেননি।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন করা হয়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে সক্ষম হন।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং বৃদ্ধকে স্ত্রীর কবর জিয়ারতের ব্যবস্থা করে দেয়।
