Site icon হামার কুড়িগ্রাম

জাল ভিসায় বিমানবন্দর হতে ফেরত রাজারহাটের ৮ জন, লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা রবীন্দ্রনাথ

এনামুল হক সরকার || রাজারহাট

গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বিদেশে বেশি বেতনে চাকুরীর স্বপ্ন দেখিয়ে জাল ভিসা ও টিকিট দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লাপাত্তা রাজারহাট উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউ,পি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার।

রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের দেয়া লাওস দেশের অনুমতিপত্র ও আল আব্দুল্লাহ এয়ার সার্ভিসের টিকিট জাল হওয়ায় গত ২৫ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৮জনকে ফেরত পাঠায়।

রবীন্দ্রনাথ কর্মকার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউ,পি চেয়ারম্যান খিতাব খাঁ গ্রামের বিনোদন কর্মকারের পুত্র।

হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ফেরত দুলু মিয়া প্লাউড সেকশনে ১০জন ১০ দিন ব্যাপী ট্রেনিং নেই, আমাদের পরবর্তী শিফটে বাকি নয়জন ট্রেনিং করি,বাকি ৯জন অন্য কাজের উপরে ট্রেনিং করে।

ট্রেনিং শেষে ১০-১৫দিনের মধ্যে কাগজপত্র চলে আসবে।কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরে পঁচিশ সালের ২৫শে মে লাওসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভিয়েনতিয়েন ভিসা ও প্লেনের টিকিট হাতে পেয়েছিলাম।ভিসা ও টিকিট জাল হওয়ায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের ৮জনকেই ফেরত পাঠায়।

দুলু মিয়া বলেন প্রথমে ৪ লক্ষ টাকা দিয়েছি,তারপর উনি ফোন করে বললেন বাকি ৪ লক্ষ টাকা ওনার ওয়াইফকে বাড়ীতে দিতে বলে,টাকা নিয়ে বাড়ীতে যাই মাধ্যমসহ উনার স্ত্রীকে ৪ লক্ষ টাকা দেই এসময় হরিশ্চন্দ্র কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।

খিতাব খাঁ গ্রামের কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রতারনার শিকার ইব্রাহিম আলম সবুজ গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকার মটস্ ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রেনিং সেন্টারে উনিশজনকে দুটি শিফটে ভর্তি করান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার।


উনি ফোনে আমার কাছে টাকা চাইলে ২০২৪ইং নভেম্বরের ২০ তারিখে আমি তার বাড়িতে গিয়ে এক লক্ষ টাকা দিয়ে আসি,আবার ডিসেম্বর মাসের ৯তারিখে আমার স্ত্রীর কাছে ২ লক্ষ টাকা নেন।

দুইবারে মোট ৩ লক্ষ টাকা রবিকে দিয়েছি।আমরা যে ট্রেনিং নিয়েছি তারও সনদপত্র রবীন্দ্রনাথ কর্মকার কাছে এবং তিনি প্রথমে ৮জনকে ভিসা ও টিকিট দেন সে তালিকায় আমি নেই।

প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগী আকাশ চন্দ্র (২৫) বলেন,আমাদের দুই শতাংশ ভিটেমাটি ছিল সেটিসহ মায়ের স্বর্নের গহনা বিক্রি করে চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের হাতে টাকা দিয়ে সর্বশান্ত আমার পরিবার।

টিকিটের গায়ে থাকা ফোন নম্বরে কথা হলে ঢাকার পল্টনে অবস্থিত আল আব্দুল্লাহ এয়ার সার্ভিস এজেন্সির লোকমান বলেন এসব টিকিট না,টিকিট বুকিং কপি। এবছরের এপ্রিলে নামের একজন বুকিং করছে এটা তারই কপি। পরবর্তীতে টিকিট নিতে কেউ আসেনি আমাদের কাছে। লোকমানের দেয়া নম্বরের কথা হাসানের সঙ্গে।


লোকমান ও হাসান সম্পর্কে তারা মামা-ভাগিনা।হাসান বলেন আমাকে মোহন সাহেবের মাধ্যমে একজন চেয়ারম্যান লাওসের ৯টি টিকিট বুকিং করতে বলেন।আমি টিকিট বুকিং করি।টিকিট বুকিং এর একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আপনি পেমেন্ট না করেন অটোমেটিক বুকিং ক্যানসেল হয়। আমাকে রিফাত ট্যুর ট্রাভেলসের মি: মোহন বাবু আমাকে বুকিং করতে দিয়েছে।ওই কোম্পানির মালিক ভিসা নিয়ে আসতে অলরেডি লাওসে গেছে, দেড়মাস ধরেই ভিসা আসে।পরে ঈদ উল আযহার পরে সব ছেলেগুলো গেছে। রবীন্দ্রনাথ কর্মকার ও মোহন বাবুসহ অনেকবার মিটিং হইছে।

এবিষয়ে রবীন্দ্রনাথ কর্মকার মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের ছোট ভাই হরিশ্চন্দ্র কর্মকার বলেন আমি এসবের কিছুই জানিনা। আমি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।ওগলা আলোচনাতেও আমি নাই লেনদেনেও নাই।

Exit mobile version