
ডেস্ক রিপোর্ট
মর্মান্তিক বাস্তবতার কাছে হার মানলো কঠোর একাডেমিক নিয়ম। শহীদ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সৈনিক শান্ত মণ্ডলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টিকে শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একটি আবেদনপত্র হাতে নিয়ে সম্প্রতি তিনি কলেজ অধ্যক্ষের দপ্তরে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রিকশায় যাতায়াত করা তার এবং অনাগত সন্তানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রিকশার ঝাঁকুনি কিংবা পথ দুর্ঘটনা শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রথমে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের শারীরিক অসুবিধা নিয়েও অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং নির্বাচনী পরীক্ষা ছাড়া ফরম পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে দিলরুবা তার ভিন্ন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন,
“এই সন্তানের জন্যই আমি বেঁচে আছি, কিংবা বেঁচে থাকতে হবে।”
দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত শহীদ সৈনিক শান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন। শহীদ শান্ত মণ্ডল তাদের একজন।
ঘটনাটি বিবেচনায় নিয়ে শহীদ শান্ত মণ্ডলের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার অনাগত সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ফিজিক্যালি উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাইলে তার ফরম পূরণের যাবতীয় ব্যয় কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে।
দিলরুবা আরও জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলে সেনা কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বাস দিয়েছে।
নীল হেলমেট পরে বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান রক্ষা করা শহীদ শান্ত মণ্ডলের আত্মত্যাগ আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—বাস্তবতা ও নিয়ম মুখোমুখি দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত মানবিক বাস্তবতার কাছেই নিয়ম পরাজিত হয়।
এটাই চিরন্তন সত্য।
শহীদ শান্ত মণ্ডল ও দিলরুবার অনাগত সন্তানের জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে রইল শুভকামনা ও দোয়া।
আপনার মতামত লিখুন :