হামার কুড়িগ্রাম

ভারতে প্রায় ৩ বছর কারাভোগ, ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে ফিরলেন ১ নারীসহ ৩ বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজ

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন এক নারীসহ তিন বাংলাদেশি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে মেইন পিলার-১০০৯-এর কাছে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের সোনাহাট বিওপির বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিজিবি তাদের ভূরুঙ্গামারী থানায় সোপর্দ করে।

ফেরত আসা তিনজন হলেন—কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার সোভারকুটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল জলিল (২৯), একই গ্রামের মো. হাফেজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোজাফফর হোসেন (২২) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার মৃত নুর আহম্মেদের মেয়ে মোছা. শারমীন বেগম (২৫)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল ও মোজাফফর হোসেন ৩৩ মাস এবং শারমীন বেগম ২৮ মাস ভারতের কারাগারে সাজা ভোগ করেন। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর আসাম পুলিশ তাদের আটক করে। সাজা শেষে মুক্তি পাওয়ার পর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ভূরুঙ্গামারী থানার জিডি নং-৮৪৬, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাধ্যমে তিনজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা থানায় এসে তিনজনকে নিয়ে যান।

আব্দুল জলিলকে তার চাচা মোহাম্মদ আলী, মোজাফফর হোসেনকে বড় ভাই মো. রুহুল আমিন এবং শারমীন বেগমকে তার দেবর ইমন আহমেদের জিম্মায় দেওয়া হয়।

মোজাফফর হোসেন জানান, তিনি ও আব্দুল জলিল এলাকায় নদীতে মাছ ধরার সময় অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। কুয়াশার কারণে সীমান্তের অবস্থান বুঝতে না পারায় বিএসএফ তাদের আটক করে।

তিনি বলেন, বিএসএফ আটকের পর তাদের মারধর করেনি এবং ভারতে ৩৩ মাস কারাগারে থাকাকালেও কোনো ধরনের মারধরের শিকার হননি। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার আনন্দে তিনি পরিবারের কাছে যাওয়ার পথে থাকায় এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কথা বলতে পারেননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সোনাহাট বিওপির বিজিবি সদস্যরা তিনজনকে থানায় দিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে পরিবারের সদস্যরা এসে তাদের নিয়ে গেছেন।

Exit mobile version