ডেস্ক নিউজ
প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং বিয়ে নিবন্ধনে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্বামীর স্বীকৃতি, অনাগত সন্তানের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে গত তিন দিন ধরে ফুলবাড়ীতে অবস্থান করছেন আর্নি আক্তার অনামিকা নামের এক নারী।
অনামিকার অভিযোগ, বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরে বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়ে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা টালবাহানা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অনামিকা বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানি সড়কের বাসিন্দা। ঢাকায় রাসেল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রায় দুই মাস কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে রাসেল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে একজন হুজুরের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি অনামিকার।
অনামিকার ভাষ্য, বিয়ের পর রাসেল ব্যবসার কাজে প্রায় আট মাস মিসরে ছিলেন। দেশে ফিরে কিছুদিন ঢাকায় তার সঙ্গে থাকার পর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসেন রাসেল। প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকায় রাসেলের মামার বাড়িতে প্রায় ১০ দিন রাখার পর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, সেখানে প্রায় চার মাস থাকার পর ব্যবসায় লোকসানের কথা বলে রাসেল পাঁচ লাখ টাকা চান। বিয়ে নিবন্ধনের আশ্বাসে বাবার জমি ও নিজের গহনা বিক্রি করে ওই টাকা দেন তিনি। কিন্তু পরে বিয়ে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ অনামিকার।
অনামিকার আরও অভিযোগ, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। বিষয়টি স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রতিকার না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট আদালতে স্বামী রাসেল মিয়া, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানান অনামিকা।
অভিযুক্ত রাসেল মিয়া (২৬) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হোলখানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর চন্দ্র রায় বলেন, মামলায় পাঁচজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি রাসেল মিয়াসহ অপর দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
