অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর সেই কাউন্সিলে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর মহাসচিব পদে থাকছেন না—এমন আলোচনা আগে থেকেই রয়েছে।
এর মধ্যে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।
কেন আলোচনায় রিজভী
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে রুহুল কবির রিজভীর নাম সামনে এসেছে।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রিজভীর দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে। সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নেও রিজভী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায়
পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদের নামও সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তুলনামূলক কম—এটিকে সম্ভাব্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলের কেউ কেউ।
আরও যাদের নাম আলোচনায়
রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলের কয়েকজন নেতার মতে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সামনে এখন তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতাকে মহাসচিব পদে দেখা যেতে পারে।
কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব চান তৃণমূল
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য এবং কর্মীবান্ধব কোনো নেতাকে মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান।
দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টি আপেক্ষিক। দল ও দেশের জন্য যেটি ভালো হবে, সেটিই করা হবে। এ ক্ষেত্রে ত্যাগী, বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ নেতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ এবং তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন—এমন কাউকেই মহাসচিব করা হতে পারে। তুলনামূলক তরুণ নেতারাও এ পদে আসতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় দলের সংগঠন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা নতুন মহাসচিবের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা রুহুল কবির রিজভীর তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ তার অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হচ্ছেন, তা নির্ধারণ হবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে। ফলে কাউন্সিলের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

