কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ফেলানী দিবস উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে সীমান্তে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের কবরে জিয়ারত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফেলানীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ন্যায়বিচার আদায়ের আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আজ সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামে অবস্থিত সীমান্ত এলাকায় ফেলানীর কবরে জিয়ারত শেষে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন, সদস্য সচিব খন্দকার আল ইমরান, উপজেলা আহ্বায়কসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কবর জিয়ারত শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন, এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। সরকার পরিবর্তন হলেও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ফেলানী হত্যার বিচার প্রশ্নে অন্তত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা বন্ধ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনের সদস্য সচিব খন্দকার আল ইমরান বলেন, ফেলানীর পরিবার আজও ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি নেই। ফেলানী হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে ছাত্রসমাজ চুপ থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাগুলোকে রাষ্ট্র ও সরকার গুরুত্বহীনভাবে দেখছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর চাপ ও আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো ভূমিকা না রাখায় হত্যাকারীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
তারা বলেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। এই ঘটনার বিচার না হওয়া মানে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়া।
কর্মসূচি শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ফেলানী হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার স্থায়ী সমাধান, দোষীদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
নেতারা জানান, যতদিন পর্যন্ত ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে, ততদিন ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

