ফুলবাড়ীতে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ খ্যাত মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ন /
ফুলবাড়ীতে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ খ্যাত মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

মাইদুল ইসলাম মামুন ।। হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের রাবাইটারী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নেওয়াশী বাজারে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি এসব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেন করে আসছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক মাসে তার মাধ্যমে ৩ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ মার্চেন্ট ক্যাশ-আউটের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান নিষিদ্ধ, তবুও নিয়ম ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে কালো টাকা সাদা করার মতো কর্মকাণ্ডও সংঘটিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, মোস্তাফিজুর নিজস্ব সিম ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করতেন এবং অন্যদেরও এতে সম্পৃক্ত করতেন। নেওয়াশী বাজারে নতুন দোকান চালু করার পর বর্তমানে তার লেনদেনের পরিমাণ সর্বোচ্চ বলেও দাবি করেন তারা।

আরও জানা যায়, প্রায় দুই বছর সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি ক্যাসিনো ব্যবসার কৌশল শিখে দেশে ফেরেন এবং এরপর থেকেই এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

এ বিষয়ে বিকাশ ও নগদ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নেওয়াশী বাজারে নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে ‘মহাজন প্লাজা’ এলাকায় লেনদেনের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,আমি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার প্রায় দুই বছর হয়েছে। বর্তমানে ছোট একটি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমি যদি কোনো অবৈধ কাজ করে থাকি, আইন অনুযায়ী শাস্তি মেনে নেব।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম বলেন,ক্যাসিনো বা অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।