
গ্রেপ্তার কবির হোসেন রৌমারী সদর ইউনিয়নের পদ্ধারচর গ্রামের জাইদুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই যুগলের আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণ-তরুণী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন। উপস্থিত লোকজন তাদের আলাদা করার চেষ্টা করলেও দীর্ঘ সময় ব্যর্থ হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল ওই তরুণ-তরুণী বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এ ঘটনায় ৩ মে তরুণীর মা বাদী হয়ে কবির হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে স্বজনরা তাদের খুঁজে বের করে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে নিয়ে যান।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গ্রাম আদালতের বিচারক আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে তাদের আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি ছিলেন না তরুণ-তরুণী। রায় ঘোষণার পর তারা আবেগপ্রবণ হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, কবির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকেই অপহরণ মামলা রয়েছে, বিষয়টি তার জানা ছিল না। মামলা সম্পর্কে অবগত থাকলে ইউনিয়ন পরিষদে এমন মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হতো না।
রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরমান জানান, অপহরণ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবির ও জুঁই আদালতের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে দুই পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে কবির হোসেন কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে রয়েছেন। জানা গেছে, তাকে আজ কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :