রাশেদুজ্জামান তৌহিদ ।। কুড়িগ্রাম
নীলফামারী কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যনেজার শরীফ হাসান, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানী, নিজ আত্নীয়-স্বজনদের উচ্চ ব্যাংক ঋণ প্রদান, সিসি লোনের বিপরীতে উৎকোচ গ্রহণ ও প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষদের জমি দখলসহ নানান অভিযোগ। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে একাধিক তদন্ত সাপেক্ষে তাকে ওএসডি ও পরে কুড়িগ্রাম জেলার ডিজিএম শাখায় বদলি করা হয়। এদিকে কুড়িগ্রামে বদলির পর সেখানকার জনগণ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে তাকে জেলা হেড কোয়ার্টার থেকে অপসরণের দাবি তুলেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নীলফামারী কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার শরীফ হাসানের নানান অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে তদন্ত সাপেক্ষে নীলফামারী ডিজিএম শাখায় ওএসডি অতপর ব্যাংক আদেশে তাকে গত ১৬ মার্চ কুড়িগ্রাম ডিজিএম শাখায় বদলি করা হয় সেখানে তিনি গত ২৯ মার্চ যোগদান করলে জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। জেলার সাধারণ জনগণ ও ব্যাংক গ্রাহকেরা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে, তারা এরকম দূর্নীতিবাজ অফিসারকে কুড়িগ্রামে দেখতে চাননা, তারা ব্যাংকের সুনাম রক্ষার্থে অবিলম্বে কুড়িগ্রাম হেডকোয়ার্টার থেকে তাকে অপসরণের দাবি জানান।
এব্যাপারে কথা হলে, কুড়িগ্রাম গ্রীন ভিলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম রশীদ আলী বলেন, “কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম শাখায় সদ্য যোগদানকারী সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ( এসপিও) শরীফ হাসান তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে এখনে বদলি হয়েছেন। তার নানান অপকর্মের খবর আমরা গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় জেনেছি। আমরা এরকম দুর্নীতিবাজ অফিসার কুড়িগ্রামে দেখতে চাইনা। আমরা তার দ্রুত অপসরণ চাই।”
জেলার সমাজকর্মী শাওন, নুরুন্নবী, ব্যাংক গ্রাহক আতিকুল ও আইয়ুব আলী বলেন, কুড়িগ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় জেলা, এই জেলার কোন সরকারি অফিসে আমরা দুর্নীতিবাজ অফিসার দেখতে চাইনা, অবিলম্বে সোনালী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম শাখার ডিজিএম আগত দুর্নীতিবাজ অফিসারকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করবেন বলে আশা করি।
কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম শাখায় শরীফ হাসানকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দেখা গেলে গেলেও তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কথা হলে কুড়িগ্রাম শাখার ডিজিএম মো. মামুনুর রশিদ হেলালী জানান, “শরীফ হাসান নামে একজন অফিসার গত ২৯ মার্চ যোগদান করেছেন, এখনো তার নামে পূর্ণাঙ্গ ফাইল আমাদের হাতে আসেনি, তাই আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত না জেনে কিছু বলতে পারছিনা।”

