উপজেলা প্রতিনিধি, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন দেশের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন এই রাজনৈতিক দলটি কোন বলয়ে থেকে নির্বাচনে অংশ নেবে—সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্তের পথে। এনসিপিকে কাছে টানতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় পক্ষই সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, আগামী সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এনসিপির প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া বজায় রেখে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চালাচ্ছে দলটি। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করে যুবশক্তির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “এনসিপি বিএনপি বা জামায়াত—যার সঙ্গেই জোট করুক না কেন, ১০টি আসন পেলেও ড. আতিক মুজাহিদের আসন ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল—দুই পর্যায়েই আলোচনা চলছে।”
এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম–০২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এনসিপি যদি ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ।
বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের পুরোনো সুবিধাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এই তরুণ নেতা ইতোমধ্যেই কুড়িগ্রাম–০২ আসনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে পরিবর্তনের হাওয়া লাগিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও ভোটারবিমুখ রাজনীতিতে বিরক্ত সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, ড. আতিক মুজাহিদের মধ্যে দেখছে বিকল্প নেতৃত্ব ও প্রতিবাদের স্পষ্ট কণ্ঠস্বর।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইয়াসিন আলী। তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি। ইয়াসিন আলী বলেন, “দুই বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও জনসংযোগ করছি। মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রচারে আছেন মো. নূর বখত, যিনি ইসলামী আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি।
এনসিপির মনোনয়নপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “২৪–পরবর্তী সময়ে মানুষ দল নয়, যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দেয়। বৈষম্যের তলানিতে থাকা কুড়িগ্রামের জন্য বরাদ্দ আদায় করে আনার যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃত্বই এখন মানুষের চাওয়া। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৈষম্যমুক্ত কুড়িগ্রাম গড়তে চাই।”
স্থানীয় রাজনীতিতে তথাকথিত ‘পরীক্ষিত মুখ’-এর প্রতি জনআস্থার ভাঙনের সুযোগে ড. আতিক মুজাহিদ হয়ে উঠেছেন পরিবর্তনের প্রতীক। তাঁর স্পষ্ট অবস্থান, আপসহীন বক্তব্য ও সংস্কারমুখী রাজনীতি এই আসনে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তুঙ্গে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি ও ৮ দলীয় জোট যদি বাস্তব পরিবর্তনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তবে কুড়িগ্রাম–০২ আসনে ড. আতিক মুজাহিদের মতো তরুণ, দৃঢ় ও জনগণের ভাষায় কথা বলা নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আনুষ্ঠানিক জোট ও আসন সমঝোতার ঘোষণা আসার আগেই স্পষ্ট—এই আসনে এবারের নির্বাচন হবে পুরোনো বন্দোবস্ত বনাম নতুন রাজনীতির মুখোমুখি লড়াই।

