Site icon হামার কুড়িগ্রাম

টাকার অভাবে থেমে যেতে বসেছে রাফির ক্রিকেট ক্যারিয়ার

ডেস্ক নিউজ

অর্থনৈতিক সংকটে থমকে গেছে মেধাবী তরুণ ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির স্বপ্নের পথচলা। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান পরিবারের সীমিত সামর্থ্য ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই রাফি দেখিয়েছেন অসাধারণ পারফরম্যান্স। জেলা পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৮ দলে অধিনায়ক হিসেবে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। পরবর্তীতে জায়গা করে নেন রংপুর বিভাগীয় দলে এবং অংশ নেন ওয়াইসিএল ইস্ট জোনে। এছাড়া ঢাকার ২য় ও ৩য় বিভাগ ক্রিকেট লিগেও খেলেছেন তিনি। ৩য় বিভাগে রাইজিং স্টার ক্লাবের হয়ে ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ২য় বিভাগে মিরপুর বয়েজ ক্লাবের হয়ে করেন ৩৫০ রান, রয়েছে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরিও।

তবে প্রতিভা থাকলেও উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে তার অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন। প্রতিদিন কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করলেও আধুনিক কোচিং সুবিধার অভাব স্পষ্ট।

রাফি বলেন, “ভালো অনুশীলনের সুযোগটাই সবচেয়ে দরকার। কিন্তু কুড়িগ্রামে সেই সুবিধা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন আর খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”

রাফির বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রায়হান কবির জানান, বড় ছেলের মেডিকেল পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও তিনি আশাবাদী— “ভালো কোনো একাডেমিতে অন্তত ৬ মাস প্রশিক্ষণ পেলে সে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবে।”

রাফির কোচ নাজমুল হুদা লাকু বলেন, “তার ব্যাটিং স্টাইল ও ডেডিকেশন অন্যদের থেকে আলাদা। সঠিক পরিচর্যা পেলে সে দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।”

এদিকে জেলা ক্রীড়া অফিস জানিয়েছে, ক্রীড়া শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার গ্রামের এই তরুণ ক্রিকেটার এখন অপেক্ষায়—একটু সহায়তা, একটু সুযোগের। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো রাফিই হতে পারেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

Exit mobile version