জিয়ার আদর্শ ধারণ করে না বিএনপি—এ অভিযোগে দল ছাড়লেন ইঞ্জি. জনী, মনোনয়নের জন্য ছুটছেন এনসিপিতে


HK প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন /
জিয়ার আদর্শ ধারণ করে না বিএনপি—এ অভিযোগে দল ছাড়লেন ইঞ্জি. জনী, মনোনয়নের জন্য ছুটছেন এনসিপিতে

নিউজ ডেস্ক অনলাইন 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাঈদ জনী এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এনসিপির দ্বিতীয় দিনের মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে তিনি উপস্থিত হন।

দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম–৩ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় থাকা ইঞ্জি. জনী একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব)–এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং জিয়া শিশু–কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিএনপি থেকে পদত্যাগ

১৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানান।
তিনি লিখেন, “জিয়াউর রহমানের আদর্শ এখন শুধু মুখে মুখে থাকে, অন্তরে কেউ ধারণ করে না। তাই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপির সব দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।”

১৯৯৯ সালে ছাত্রদল দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও ক্ষোভ

ইঞ্জি. জনী জানান, দলীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ হারিয়ে যাওয়ার বেদনা থেকেই তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিন মাস কারাবন্দী থাকতে হয়। এরপর ব্যবসায়িক ক্ষতি, সামাজিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যার মাঝেও তিনি বিএনপির হয়ে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া ২৬ অক্টোবর গুলশান কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তার অভিযোগ— “কুড়িগ্রাম-৩ আসনের তিন মনোনয়নপ্রত্যাশীর একজন হয়েও আমাকে ডাকা হয়নি। দল কি আমাকে ন্যূনতম মূল্যায়নও করতে পারল না?”

নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দিকে অগ্রসর

বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই তিনি এনসিপির মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। তিনি বলেন, “আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করেছি। সুযোগ পেলে পরিবর্তিত বাংলাদেশের নতুন ধারার রাজনীতিতে বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

তার জন্মস্থান উলিপুরে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত আকারে চালিয়ে যাবেন। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই