নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম | ১৬ অক্টোবর ২০২৫
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের জিয়াবাজার এলাকায় এক নারীর পবিত্র কোরআনের পাতা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে ওই নারীর মেয়ে দাবি করেন, “আমার মা পবিত্র কোরআন ছিঁড়েননি; বরং আমাদের বাসায় থাকা আমপারা কায়দার একটি আগে থেকেই ছেঁড়া পাতা হাতে নিয়ে ঘুরছিলেন।”
তবে পরবর্তীতে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা নারী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাঁর নাম নাজমিন আক্তার, স্বামী কালাম হোসেন, যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন।
নাজমিনের মেয়ে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তাঁর ছোট ভাই ব্লাড ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর মা সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেন এবং অনেক সময় কাল্পনিক চিন্তা, হ্যালুসিনেশন ও বিভ্রমে ভোগেন।
নাজমিন আক্তারের পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি নিয়মিতভাবে রংপুর সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মে ২০২৫-এ সর্বশেষ চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কড়া নজরদারির সত্ত্বেও অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাড়ি থেকে অসাবধানতাবশত বের হয়ে যান বলে পরিবারের দাবি।
নাজমিনের মেয়ে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন,
“ওই মহিলা আমার মা। উনি ২০১৫ সাল থেকে মানসিকভাবে অসুস্থ। গতকাল অসাবধানতার কারণে বাসা থেকে বের হয়ে যান। আমি ও আমার ছোট বোন এখন খুব কষ্টে আছি। অনুরোধ করছি, আপনারা দয়া করে ভিডিও ও পোস্টগুলো মুছে ফেলুন।”
পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে— মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতন ও মানবিক আচরণ করার জন্য, যাতে ভুল বোঝাবুঝি ও সামাজিক অপপ্রচার থেকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

