Site icon হামার কুড়িগ্রাম

জলাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনার পর ড্রেনেজ উন্নয়নে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে এমপির ডিও লেটার

স্টাফ রিপোর্টার | কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে টানা অতিভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার একদিন পর পৌর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে (এলজিআরডি) ডিও লেটার দিয়েছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

অতিভারী বর্ষণের ফলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, পিটিআই এবং জেলা দায়রা জজ আদালত এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ জলাবদ্ধ এলাকাকে কেন্দ্র করে ‘পিকনিকের ঘোষণা’, কেউ ‘মাছ ধরতে যাওয়ার ঘোষণা’, আবার কেউ ‘সাঁতার কাটতে যাওয়ার’ মন্তব্য করে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন।

এরই একদিন পর, ১৪ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার দেন সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি অফিস এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়।

বিশেষ করে খলিলগঞ্জ বাজার থেকে টেক্সটাইল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না বলেও ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে খলিলগঞ্জ বাজার থেকে টেক্সটাইল মোড় পর্যন্ত আধুনিক ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

ডিও লেটারে এমপি আরও উল্লেখ করেন, নদীভাঙনপ্রবণ ও দীর্ঘদিন অবহেলিত জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামের নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

Exit mobile version