কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ১৩ মে ২০২৬
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে তিশা (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার দাবি করেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই তাদের সন্তানকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১১ মে শিশুটিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে ‘নাপা’ সিরাপ সেবনের পরামর্শ দেন এবং একটি এক্স-রে (CXR) করতে বলেন। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির মাথায় আঘাতের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তাকে ব্রেইন সিটি স্ক্যান (CT Scan) না করে বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, শিশুটির শারীরিক অবস্থা তখনই আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে না রেখে সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও পরীক্ষা করানোর মধ্যেই শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
একপর্যায়ে শিশুটিকে পুনরায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে “Brought Dead” ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির মৃত্যুর পর চিকিৎসকের কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি “ব্রেইন ইনজুরি”-র কথা উল্লেখ করেন। এ নিয়ে পরিবারের প্রশ্ন—যদি ব্রেইন ইনজুরির কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় কেন প্রয়োজনীয় ব্রেইন সিটি স্ক্যান না করে বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হলো?
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়,
“আমরা আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আমরা এই অবহেলার সঠিক বিচার চাই।”
পরিবার জানায়, শিশুটির চিকিৎসা করেছিলেন চিকিৎসক তাসলিমা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে ফোন ও WhatsApp-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
