কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় সাপের ছোবলে লিমা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নগরাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল লিমা। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম ভাঙলে সে গোয়ালঘরে গরু দেখতে যাওয়ার জন্য বিছানা থেকে উঠে। এ সময় গোয়ালঘরের তালার চাবি নেওয়ার জন্য টিনের বাক্সের (টেরাং) উপর হাত দিতেই হঠাৎ একটি বিষধর সাপ (কালাচ) তাকে ছোবল মারে।
পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে লিমাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন স্বজনরা। তাদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—এখানে সাপের কামড়ের কোনো চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নেই। পরে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লিমার বাবা বলেন, “আমার মেয়ে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের তালার চাবি নিতে গেলে একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। আমরা দ্রুত কুড়িগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু সেখানে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পর আমার মেয়ে মারা যায়।”
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক না থাকায় রোগীদের প্রায়ই রংপুরে নিতে হয়। এতে অনেক রোগী পথেই মৃত্যুবরণ করেন। সাধারণ মানুষের দাবি, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিশ্চিত করতে হবে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

