কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থানগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত কমিশনে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং শাখা থেকে গত ৯ আগস্ট কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন করে সুপারিশ প্রদানের নিমিত্তে কমিশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে গঠিত কমিটি গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে কুড়িগ্রামে সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে কমিটির আহ্বায়ক ও কমিশনের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন মাহমুদ এবং অন্যান্য সদস্যরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ৩টি স্থান—দাশেরহাট, খালিশার দোলা ও সিনাই—এর প্রস্তাব পাওয়া যায়। প্রাপ্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কমিটি স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থানগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জরুরি ভিত্তিতে চেয়েছে।
যেসব তথ্য চেয়েছে ইউজিসি
চিঠিতে প্রস্তাবিত স্থানগুলোর বিষয়ে মোট ৯ ধরনের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. প্রস্তাবিত স্থানসমূহের মৌজা ম্যাপ, সিএল নম্বর, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি ও শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য; মৌজা রেট, জমির পরিমাণ এবং জমির বর্তমান মালিকানা ও মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য।
২. খাস ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পরিমাণ, সভায় অধিগ্রহণ ব্যয়, ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা, পুনর্বাসন এবং আইনগত জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য।
৩. প্রস্তাবিত স্থান ও এর বাহিরে উত্তর পাশের টপোগ্রাফিক অবস্থা, জমির বিদ্যমান আরএল (RL), সংলগ্ন সড়কের আরএল, কালভার্ট ম্যাপ এবং প্রস্তাবিত ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জমি ভরাটের সম্ভাব্য পরিমাণ।
৪. গত ২০ বছরের বন্যার ইতিহাস, বন্যার পানির সর্বোচ্চ স্তর বা Highest Flood Level, জলাবদ্ধতার অবস্থা, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং প্রস্তাবিত স্থানের বন্যাঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য।
৫. জাতীয়/আঞ্চলিক মহাসড়ক, রেলওয়ে, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরসহ প্রস্তাবিত স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব, সড়ক নেটওয়ার্ক, বিদ্যমান সড়কের প্রস্থ, বহনক্ষমতা ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য।
৬. বিদ্যুৎ, গ্যাস (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নিরাপদ পানি, ড্রেনেজ, ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সুবিধার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা।
৭. পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব, কৃষিজমি, জলাশয়, বনাঞ্চল বা সংরক্ষিত এলাকা, সার্বিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতা সম্পর্কিত তথ্য।
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ, অতিরিক্ত জমি সংযুক্তির সম্ভাবনা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের উপযোগিতা সম্পর্কিত তথ্য।
৯. প্রস্তাবিত স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থার ড্রোন ছবি ও ভিডিওসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র।
ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থানগুলোর উপযুক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত কমিশনে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত তিনটি স্থানের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সরেজমিন মূল্যায়নের পর স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।
