Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে সেতু ধসের ঘটনায় প্রাণ গেল ১ জনের, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিন ইউনিয়ন

নিউজ ডেস্ক অনলাইন | হামার কুড়িগ্রাম

এলজিইডির নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, অর্ধলাখ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সেতু ধসে পড়ে একজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ট্রাক্টর সেতুর ওপর উঠতেই মুহূর্তের মধ্যে সেটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এতে ট্রাক্টরে থাকা কয়েকজন নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। আহত বাকি পাঁচজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০০৩ সালে নির্মিত সেতুটি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ধসে পড়া এলজিইডির নিম্নমানের কাজের প্রমাণ। তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে জড়িত ঠিকাদার ও তৎকালীন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সেতুটি ধসে পড়ায় পাঁচগাছী, যাত্রাপুর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন জানান, সেতু ধসের পর বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুটি আগে থেকেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। স্থানীয়দের ভারী যানবাহন চলাচল না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি জানান, আপাতত সেখানে সেতুর পরিবর্তে বন্যা শেষে মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া জরুরি যোগাযোগের জন্য সোমবার (২৫ মে) বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এলজিইডির এই বক্তব্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রাণহানির মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Exit mobile version