রতন রায় ।। বিশেষ প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে যথাযথ মর্যাদা ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে পালিত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (রাওস) বাংলাদেশ, কুড়িগ্রাম শাখার আয়োজনে শুক্রবার সকালে জেলার খলিলগঞ্জ বাজারে অবস্থিত মেসার্স নাঈম ট্রেডার্স প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সালাম। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ক্যাপ্টেন মো. গোলজার হোসেন (সেনাবাহিনী)।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাওস ফাউন্ডেশন, কুড়িগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট শাহীনুর ইসলাম।
১৯৭১ সালের এই দিনে সম্মিলিত বাহিনীর গঠন ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় সম্মিলিত বাহিনী, যা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ে নির্ধারণী ভূমিকা পালন করে। এরই স্মৃতিতে দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর সালাম (অব.) তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার পদে তার দ্বিতীয় ব্যাচে কমিশন প্রাপ্তির কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তিনি অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের একত্রিত হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সকলে মিলে একসঙ্গে একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করলে কোনো সদস্য যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে সংগঠনের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে নির্যাতন-নিপীড়নকারীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’ তিনি সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা রাওস ফাউন্ডেশনকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের একটি অন্যতম সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এসময় কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ তার নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ কালে হঠাৎ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন আলোচনা সভা চলাকালীন সময়ে উপস্থিত হয়ে তিন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যবানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও দোয়া চেয়ে পথযাত্রায় রওনা হন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাওসের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আব্দুল জব্বার (বিমান বাহিনী), মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মো. সেরাজুল ইসলাম (নৌ বাহিনী), সহ-সভাপতি ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুস সালাম (বীর), ওয়ারেন্ট অফিসার ইদ্রিস আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সার্জেন্ট রেজাউল করিম, সার্জেন্ট শাহ আলম, সার্জেন্ট খন্দকার এমএ সিদ্দিক, সার্জেন্ট এনামুল প্রমুখ। এ সময় জেলার শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের পর দুপুরে প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

