হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত পানি নিষ্কাশন

আশির্বাদ রহমান । হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্যকুমারপুর এলাকায় সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং কৃষিজমির ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় কৃষক মো. নুর ইসলাম।

লিখিত আবেদনে নুর ইসলাম উল্লেখ করেন, এলাকায় একটি সরকারি কালভার্টের মাধ্যমে প্রায় দুই একর ২৫ শতক জমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজিজুল হক সম্প্রতি ওই সরকারি কালভার্টের মুখ ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে জমিতে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নুর ইসলাম দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আজিজুল হককে একাধিকবার কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের মুখে বস্তা, নেটসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে কালভার্ট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর ফলে ভুক্তভোগীর জমি ছাড়াও আরও প্রায় দেড় একর কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী নুর ইসলাম বলেন, “সরকারি কালভার্টটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন ও সেচের ব্যবস্থা হয়ে আসছিল। কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জমিতে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কালভার্টটি উন্মুক্ত করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”

এলাকাবাসী রুজিনা বেগম বলেন, কালভার্টটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মুখ বন্ধ থাকলে কৃষিজমিতে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এলাকাবাসী সাহের আলী বলেন, সরকারি কালভার্টের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করার অভিযোগটি তদন্ত করা প্রয়োজন। কালভার্টটি যদি পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বন্ধ থাকায় কৃষকদের ক্ষতি হতে পারে। প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত মো. আজিজুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আবেদনের অনুলিপি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টির বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এখন প্রশাসনের তদন্ত ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে কালভার্টের প্রকৃত অবস্থা এবং পানি চলাচলে বাধার বিষয়টি নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয়রা।

Exit mobile version