কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট শাহ মো. নূরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের একটি বড় কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন বিভাগ, শিক্ষা বিভাগসহ ১২টি সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসা বন্ধ থাকার দিনে কোনো সরকারি অনুমোদন, বন বিভাগের অনুমতি এবং মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত বা রেজুলেশন ছাড়াই গাছটি কাটা হয়। স্থানীয়দের বাধার কারণে কাটা গাছটি এখনো মাদরাসা প্রাঙ্গণে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাটা কাঁঠাল গাছটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও মাদরাসার কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দার স্বাক্ষরসংবলিত অভিযোগে বলা হয়, মাদরাসার সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়টির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী, নুর ইসলাম, আনিছুর, রাজু আহমেদ, আশরাফুল আলম, রুহুল আমিন, মহুবর রহমান, বাবু বসুনিয়া ও মোখলেছ বসুনিয়া বলেন, মাদরাসা বন্ধ থাকার দিনে গাছ কাটার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে কাটা গাছটি মাদরাসা মাঠে রেখে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, এর আগেও প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে।
কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, “মাদরাসা সুপার আমার কাছে ১৩ হাজার টাকায় কাঁঠাল গাছটি বিক্রির বন্দোবস্ত করেছিলেন। ওই দামে গাছটি নেওয়ার কথা ছিল।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট শাহ মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদরাসার সভাপতি মাহাবুর রহমানের অনুমতি নিয়ে গাছটি কেটেছি। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে।”
মাদরাসার এডহক কমিটির সভাপতি ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান বলেন, মাদরাসার ফার্নিচার তৈরির জন্য স্থানীয়দের পরামর্শে গাছটি কাটা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাছটি থাকলে ভবন নির্মাণে অসুবিধা হতো বলে তিনি দাবি করেন।
কুড়িগ্রাম বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মাদরাসা সুপারকে গাছ কাটার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে তো সব তথ্য থাকে না। এডিসি শিক্ষার সঙ্গে কথা বলেন।” পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসাদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদন্ত ও সিদ্ধান্তের পরই গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
