Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে খুরা ও লাম্পি রোগের প্রাদুর্ভাব, দুই সপ্তাহে মারা গেছে ১৪ গরু

কুড়িগ্রামে গত দুই সপ্তাহ ধরে গবাদিপশুর মধ্যে খুরা ও লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় খুরা রোগে ১২টি এবং লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ২টিসহ মোট ১৪টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত গরু এই দুই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে খামারিরা ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে থেকে নিয়মিত তদারকি ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদের পশুর বাজারে এ রোগের কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের হরিশ্বর ও জোৎগোবর্ধন এলাকায় গত এক সপ্তাহে খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি গর্ভবতী গাভিসহ তিনটি গরু মারা গেছে। একই উপজেলার দাশেরহাট ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও একটি গাভি। এছাড়া ওই এলাকাগুলোতে অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি গরু খুরা ও লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের পল্লী প্রাণী চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“অনেক গরু খুরা ও লাম্পি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, আবার চিকিৎসায় সুস্থও হচ্ছে। তবে ঈদের আগে এই রোগের সংক্রমণ খামারি ও গৃহস্থদের জন্য বড় ধরনের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগাক্রান্ত গরু বিক্রি করতে না পারা এবং সুস্থ হওয়ার পরও গরুর স্বাস্থ্যহানি হওয়ায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।”

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ বছর কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১৬ হাজার গরু এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলার তিনটি উপজেলায় অন্তত আড়াইশ থেকে ৩০০টি গরু খুরা রোগে এবং প্রায় ২০০টি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসজনিত হওয়ায় দ্রুত সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্যান্য উপজেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সাধারণত সারা বছরই এ দুটি রোগ কম-বেশি দেখা গেলেও বর্ষা মৌসুমে এর প্রকোপ বেশি হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন,
“কুড়িগ্রামের তিনটি উপজেলায় খুরা ও লাম্পি রোগের সংক্রমণ বেশি হলেও অন্যান্য উপজেলাতেও রোগ দেখা যাচ্ছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা দিচ্ছি এবং হাট-বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করছি। কোরবানির পশুর বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আমরা আশাবাদী।”

তিনি আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে খামারিদের প্রতি আহ্বান জানান।

আক্রান্ত পশুর যত্নে করণীয়

পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের গুটি বা ফোসকা পটাশ ও হলুদ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যেহেতু মশা ও মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়, তাই গোয়ালঘরে মশারি ব্যবহার বা ধোঁয়া দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে তরল ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে খুরা রোগে আক্রান্ত গরুর মুখ লবণ বা ফিটকিরি মিশ্রিত পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পায়ের খুর পটাশ বা নিমপাতা মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। এছাড়া গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

Exit mobile version