Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস

আহসান হাবিব নীলু ।। কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে এলপিজি গ্যাসের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার গ্যাস পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও।

কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় অর্ধেক মানুষ দৈনন্দিন রান্না, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরেই শহরের বাসিন্দাদের রান্নার প্রধান ভরসা ছিল সিলিন্ডার গ্যাস। তবে সম্প্রতি দেশব্যাপী এলপিজি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কুড়িগ্রামেও।

সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য এক হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে ডিলার পয়েন্ট থেকে তা কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “গ্যাস কিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। দাম বেশি হলেও না কিনে উপায় নেই—রান্না করব কী দিয়ে?”

একই অভিযোগ করেন পৌর এলাকার বাসিন্দা রতন চন্দ্র। তিনি বলেন, “শহরে থাকলেও গ্যাস সংকটে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। অনেক সময় টাকা থাকলেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।”

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। শহরের শাপলা চত্বরে অবস্থিত জান্নাত হোটেলের মালিক মুন্না বলেন, “গ্যাসের দাম বেড়েছে, কিন্তু খাবারের দাম তো ইচ্ছেমতো বাড়ানো যায় না। এতে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে ডিলাররা সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন। যমুনা এলপিজি গ্যাসের ডিলার বদরুল আহসান মামুন জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্রয়মূল্য, পরিবহন খরচ ও স্বাভাবিক মুনাফা যোগ করেই বিক্রি করছি। তাই আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়েছে।”

এদিকে গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি ঠেকাতে মাঠে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদী জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Exit mobile version